সেই পাগলির সন্তানকে হাসপাতালে নিলেন ইউএনও

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ফুটফুটে একটি কন্যাসন্তান প্রসব করেছেন শাবনূর নামের এক পাগলি। ওই সন্তানকে হাসপাতালে নিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক।

জাগো নিউজে প্রকাশিত সংবাদটি তার চোখে পড়লে ওই সন্তানের দায়িত্ব নিতে বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টায় ইউএনও ছুটে আসেন সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকার মেথর পট্টিতে। এরপর সন্তানসহ ওই নারীকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

এ বিষয়ে ইউএনও নাহিদা বারিক বলেন, ‘এখানে শিশুটির নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। এজন্য শিশুটির সার্বিক নিরাপত্তা ও সুস্থতার জন্য হাসপাতালে নেয়া হবে।’

এর আগে সকাল ৯টায় উপজেলার শিমরাইল মোড়ের একটি বাস কাউন্টারের সামনে সন্তান প্রসব করেন ওই পাগলি। তবে সন্তানটির বাবা কে তা জানা যায়নি। সন্তান প্রসবের পর ওই প্রসূতি ও তার সন্তান বাস কাউন্টারের সামনের এক চকলেট বিক্রেতা নাসিমার তত্ত্বাবধানে থাকেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রসব বেদনা ওঠার পর পাগলি নিজেই তার সন্তান প্রসব করেন। খবর পেয়ে চকলেট বিক্রেতা নাসিমা তাদের উপজেলার মেথর পট্টিতে নিয়ে গোসল করান।

নাসিমা জানান, দেড় মাস আগে শিমরাইল মোড়ের কয়েকজন দোকানদার মিলে ওই পাগলিকে আলট্রাসনোগ্রাম করিয়েছিলেন। তারপর আর ডাক্তার দেখানো হয়নি।

তিনি আরও জানান, দুই বছর ধরে ওই পাগলি শিমরাইল মোড়ে ঘোরাঘুরি করেন। আশপাশের দোকান থেকে খাবার খেয়ে জীবনধারণ করেন।এনিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ‘রাস্তায় সন্তান প্রসব করলেন পাগলি’ শিরোনামে এ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। সংবাদটি চোখে পড়ার পর নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিক ওই নারী ও তার সন্তানকে তত্ত্বাবধানে রাখা নাসিমাকে অর্থ সহায়তা প্রদান করেন।

এদিকে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নেয়ার জন্য মানবাধিকার কর্মী সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিমরাইল মোড়ের মেথর পট্টিতে অবস্থান করেন।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. ইমতিয়াজ, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান

আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা প্রেস ক্লাব সভাপতি হোসেন চিশতী সিপলু, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এম এ শাহীন, সদস্য এম এইচ সৈকত ও রাশেদুল ইসলাম রাজু।