দুবাই যাওয়া হলো না লিখনের, বি*দ্যুৎস্পৃষ্ঠে শেষ হয়ে গেল পরিবারের স্বপ্ন
আর মাত্র ৬দিন বাকি। আগামী ১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে যাওয়ার কথা ছিল উপসাগরীয় দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে। পাসপোর্টে ভিসা লেগেছে, ব্যাগে ছিল নতুন স্বপ্ন। ধারদেনা করে ৪ লক্ষ টাকা জোগাড় করে যখন সংসারের সুদিনের স্বপ্ন দেখছিলেন লিখন মৃধা (২৪), ঠিক তখনই এক নিমেষের বি*দ্যুৎস্পৃষ্ঠে সব স্বপ্ন নিভে গেল অন্ধকারে।
৯ জানুয়ারি শুক্রবার বিকালে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার দীঘা ইউনিয়নের কুমরুল গ্রামে ঘটে এই মর্মান্তিক দু*র্ঘটনা। লিখন ওই গ্রামের মৃত পিন্টু মৃধার বড় ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে লিখন মৃধা অনেক কষ্টে বিদেশে যাওয়ার সব প্রস্তুতি শেষ করেছিলেন। ঘটনার দিন বিকালে বাড়ির পাশে একটি পুকুর সেচে মাছ ধরার সময় ঘটে বিপত্তি। অসাবধানতাবশত: বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃ*ত ঘোষণা করেন।
ছেলের নিথ*র দে*হের পাশে বসে মা লাখি বেগমের বু*কফাটা আ*র্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে কুমরুলের আকাশ-বাতাস। বি*লাপ করতে করতে তিনি বলছিলেন-সামনের বৃহস্পতিবার আমার ছেলের আকাশে ওড়ার কথা ছিল।
অভাবের সংসারে সুখ আনতে চেয়েছিল লিখন। ২ মাস আগেই লিখন তার কোলের ছোট মেয়েটাকে হারিয়েছে। আজ সে নিজেও আমাদের ছেড়ে চলে গেল। এখন ঋণের টাকা কে শোধ করবে? আমাদের সব স্বপ্ন এভাবে চুরমার হয়ে গেল।
স্থানীয়রা জানান, লিখন মৃধা অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিলেন। তার মৃ*ত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের কান্নায় চারপাশের পরিবেশ স্তব্ধ হয়ে গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আশরাফুজ্জামান। -যায়যায় দিন