দূর্গাপূজার দশমীর সন্ধ্যায় বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিঁথিতে সিঁদুর দিয়েছেন কলকাতার সাবেক মেয়র ও মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়। শুক্রবার সন্ধ্যায় এমন দৃশ্য প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই বৈশাখী জানিয়ে দেন, ‘আমাদের মধ্যে স্বীকৃতির অভাব কোনও দিন ছিল না।’

শনিবার শোভনের বৈশাখীকে সিঁদুরদান নিয়ে মুখ খুলেছেন রত্না চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী আমি এখনও শোভনের স্ত্রী। তাই ও অন্য কাউকে সিঁদুর পরাতে পারে না।’

এরপরেই রত্না যোগ করেন, ‘স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ অন্য কোনও স্ত্রীলোকের সঙ্গে থাকে, তাহলে ওই স্ত্রীলোককে সমাজ ‘রক্ষিতা’ বলে। রক্ষিতাকে সিঁদুর পরালেই সে স্ত্রী হয়ে যায় না।’ খবর- আনন্দবাজার পত্রিকা।

উল্লেখ্য, গত তিন বছর ধরে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে শোভন-রত্নার মধ্যে। এখনও সেই মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। শোভনের বৈশাখীকে সিঁদুরদান প্রসঙ্গে কী কোনও আইনি পদক্ষেপ করতে চান?

এমন প্রশ্নের জবাবে রত্না বলেছেন, ‘ওরা যা পারছে করছে। কিন্তুভুলে যাচ্ছে দেশে এখনও আইন রয়েছে। শোভন আইনত এখনও আমার স্বামী।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুর্গা প্রতিমার পেছনে একটা বাঁশ থাকে জানেন তো। আমিই সেই বাঁশ। ওরা বিয়ের কথা ভাবুক।তারপর আমি দেখছি, কী করা যায়। পুজোর সময় ফোন করে শোভন একবারও ছেলে-মেয়ের খোঁজ নেয়নি।’

অন্যদিকে,শোভনের শ্বশুর মশাই তথা মহেশতলার বিধায়ক দুলাল দাস সরাসরি শোভন-বৈশাখীর এমন সিঁদুর পরানোর ঘটনাকে ‘ব্যভিচার’ বলে আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আসলে ওরা সমাজকে দূষিত করছে।

তাই প্রশাসনের উচিত ওদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করা। পাগল হয়ে ওরা যা ইচ্ছে তাই করে বেড়াচ্ছে। ওরা যা করছে তাকে ব্যভিচার ছাড়া আর কিছুই বলে না।’