জরুরি বৈঠকে হেফাজতের শীর্ষ নেতারা

অনলাইনে জরুরি বৈঠকে বসেছেন চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতারা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার এবং সর্বশেষ হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হককে গ্রেফতারের পর তারা এ বৈঠকে বসেন।

রোববার ইফতার শেষে হাটহাজারী মাদ্রাসায় এ বৈঠক বসেছে বলে নিশ্চিত করেছেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান ফয়েজী।

বৈঠকে কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এটা তিনি বলতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, বৈঠকে আলোচনার বিষয়টি জানানো হবে।

তবে মাওলানা মামুনুল হকসহ গ্রেফতারকৃত সব নেতাকর্মীদের মুক্তির ব্যাপারে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, হেফাজতের চলমান এই সংকট রাজপথে নয়, আইনিভাবে মোকাবেলা করবে হেফাজত। এমন পরিকল্পনা নিয়ে তারা শীর্ষ নেতৃবৃন্দদের সঙ্গে নিয়ে সামনের দিকে এগুচ্ছে বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ করে হেফাজতে ইসলাম। মোদির বিরোধিতায় প্রথমে ঢাকায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সামনে বিক্ষোভে সহিংসতা হয়, তার জেরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রা’ণঘা’তী সংঘাত হয়। যার জেরে ২৮ মার্চ হরতাল ডাকে হেফাজত, ওই হরতালকে ঘিরে চরম নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হয় সারাদেশে।

এরপর গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার রয়েল রিসোর্টে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে ‘ঘেরাও’ করার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, মামুনুল এক নারীসহ আটক হয়েছেন। যদিও ওই নারীকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করেছেন মামুনুল হক। ওইদিন সন্ধ্যায় রিসোর্ট থেকে তাকে ছাড়িয়ে স্থানীয় একটি মসজিদে নিয়ে যান হেফাজত নেতাকর্মীরা।

হেফাজতের নেতাকর্মীরা রিসোর্ট, স্থানীয় আওয়ামী লীগের কার্যালয়, বাড়িঘরে হা’মলা ও ভাঙচুর এবং যানবাহনে অ’গ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। এছাড়া তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আ’গুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে।

ওইদিন পুলিশের ওপর হামলা ও রিসোর্টে ভাঙচুরের অভি’যোগে মামুনুল হকসহ ৮৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়। এছাড়া মামলায় ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসা’মিও করা হয়।

এ মামলায় সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলা ও রিসোর্টে ভাঙ’চুরের অভিযোগ এনে ৪১ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাত ২৫০-৩০০ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে।

এছাড়া যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগআরেকটি মামলাটি করা হয়। এ মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখ ও ২৫০/৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। ‘ফাইল ছবি