‘হরমুজের পাশাপাশি ওমান উপসাগরও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে’ বলল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইরান। দেশটির নৌবাহিনীর একজন শীর্ষ কমান্ডার দাবি করেছেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি এখন ওমান উপসাগরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণও ইরানের সামরিক বাহিনীর হাতে রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি (Tasnim News Agency) এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন বাহিনীর ওপর নজরদারি ও প্রতিশোধের হু*মকি
ওই ইরানি কমান্ডার মার্কিন বাহিনীকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “ইরানি সৈন্যরা এখন কেবল মার্কিন বাহিনীকে তাদের ক্ষে*প*ণাস্ত্রের আওতায় আসার অপেক্ষায় রয়েছে।” তিনি সতর্ক করে দেন যে, মার্কিন রণতরী বা সৈন্যরা সীমার মধ্যে এলেই উপকূলীয় ক্ষে*প*ণাস্ত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

কমান্ডার আরও দাবি করেন, ইরানের প্রবল সামরিক মহড়া ও ক্ষে*প*ণাস্ত্র তৎপরতার মুখে মার্কিন অত্যাধুনিক রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ইরানি জলসীমা থেকে শত শত মাইল দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালির পূর্বাঞ্চল এবং ওমান উপসাগর পুরোপুরি ইরানের নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কেন ‘হরমুজ প্রণালি’ বিশ্বরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু?
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই চরম উত্তেজনার মূল কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ধমনী: বিশ্বের মোট উৎপাদিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সৌদি আরব, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েতের মতো বড় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো তাদের বাণিজ্যের জন্য এই পথের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল।

কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান: এই প্রণালির একদিকে ইরান এবং অন্যদিকে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশটি মাত্র ২১ মাইল প্রশস্ত, যা সামরিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত সহজ।

বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব: বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য এই পথ বন্ধ করে দেয়, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অকল্পনীয়ভাবে বেড়ে যাবে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণ হতে পারে।